আজ, শনিবার | ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং | রাত ১:২৪                                                                          

শালিখার ছান্দড়া বিদ্যালয়ের হেড মাস্টার শিক্ষার্থিদের নোট গাইড কিনতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ

শালিখার ছান্দড়া বিদ্যালয়ের হেড মাস্টার শিক্ষার্থিদের নোট গাইড কিনতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : শিশু শ্রেণীর শিক্ষার্থিদের জন্যে নোট গাইড প্রস্তুত ও বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা কোনভাবেই মানছেন না মাগুরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসাধু শিক্ষকরা। জেলা সদর ছাড়াও শালিখা, মহম্মদপুর ও শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকগণ শিক্ষার্থিদের নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন কোম্পানির নোট গাইড কিনতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে মোটা অংকের ঘুস অথবা টেলিভিশন, ফ্রিজ উপঢৌকন দিয়ে নিম্নমান সম্পন্ন ও নিষিদ্ধ ঘোষিত নোট ও গাইড বিক্রির ব্যবস্থা করছেন। আর ওইসব অসাধু শিক্ষকেরা চুক্তিবদ্ধ প্রকাশনীর নোট গাইড শিক্ষার্থিদের কিনতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরজমিনে তথ্যানুসন্ধ্যানে, ২০ জানুয়ারি রবিবার শালিখা উপজেলার ছান্দড়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে লেকচার প্রকাশনীর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর অন্তত ১৫ কপি নোট ও গাইড থরে থরে সাজানো রয়েছে। কিন্তু নিজের কক্ষে সাজিয়ে রাখা এসব নোট-গাইড সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন।

তবে বিদ্যালয়টির চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থিদের সঙ্গে কথা বলে সেখানকার নোট-গাইড সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা পাওয়া যায়। প্রধান শিক্ষক নিজে উভয় শ্রেণীর শিক্ষার্থিদের নোট গাইড কিনে ক্লাসে নিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে শিক্ষার্থীরা অকপটে স্বীকার করে।

ছান্দড়া স্কুলের পর শালিখা উপজেলার আড়পাড়া, সীমাখালী সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রায় প্রতিটি বইয়ের দোকানেই প্রকাশ্যে চলছে বিক্রয় নিষিদ্ধ এসব নোট ও গাইড বই বিক্রি। চলতি শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই উপজেলার বইয়ের দোকানগুলো এসব অবৈধ নোট গাইডে সয়লাব হয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে রয়েছেন নিশ্চুপ।

এ ব্যাপারে শালিখা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজ-উদ-দৌলাহ বলেন, নোট গাইড কিনতে শিক্ষার্থিদের উত্সাহিত করার বিষয়ে কোন শিক্ষকের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin.
IT & Technical Support :BiswaJit