আজ, সোমবার | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | সন্ধ্যা ৬:৩৫

ব্রেকিং নিউজ :
মাগুরার দুরাননগরে যুবকদের শ্রম বিক্রির অর্থে দরিদ্র মানুষের ঘরে ত্রাণ মহামারি করোনা : হেসে উঠুক আমাদের ভালবাসার পৃথিবী মাগুরায় করোনা রোগী: ভয় নয়, আরও দায়িত্বশীল হই চাউলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ত্রাণ নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে সাহেব আলি ছকাতি মাগুরায় ঢাকা থেকে ফেরা আরো এক যুবক করোনা আক্রান্ত গ্রাম লক ডাউন ঘোষণা মাগুরায় ৫ শতাধিক ইমাম মোয়াজ্জিনের মধ্যে এমপি শিখরের নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান মাগুরায় আশুলিয়া থেকে ফেরত যুবক করোনায় আক্রান্ত গ্রাম লকডাউন মাগুরায় ইঞ্জিনিয়ার মিরাজের নেতৃত্বে ১৪শত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ ও স্যানিটাইজার বিতরণ মাগুরাসহ যশোর অঞ্চলে জনসচেতনায় কাজ করে যাচ্ছে সেনা সদস্যরা করোনা প্রতিরোধে মাগুরা সিভিল সার্জনকে জাসদের ৭টি প্রস্তাব
আমাদের বাড়ি এবং মাধবীলতার স্মৃতি….. -অনন্যা হক

আমাদের বাড়ি এবং মাধবীলতার স্মৃতি….. -অনন্যা হক

মাগুরা শহরে আমাদের বাড়ি । এখানে এলে আমি আমার জীবনের মাঝের সময়টা হারিয়ে ফেলি।শেকড়ের টান এত শক্ত, জানি আমার মত অনেকেই অনুভব করেন। একটা নীরব সকাল, কিছু পাখি অবিরাম ডেকে যাচ্ছে।আব্বা ঘুমিয়ে, মা তার সংসার সমাজ নিয়ে ব্যস্ত।আমি বাড়ির আঙিনা ঘুরে গাছগাছালি, আকাশ, সকালের সূর্য, পাখির ডাক, ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছি। যতটুকু অনুভবে গেঁথে নিতে পারি ততটুকুই লাভ।আবার ফিরে যেতে হবে জানি সেই নগর জীবনের আবদ্ধ ঘরে।তবে আমাদের বাড়ির প্রকৃতির এই সৌন্দর্য আমাকে মোহিত করে।এই মাটি, আকাশ, গাছ-সব কিছু যে আজীবনের প্রিয়।

সব কিছুর রন্ধ্রে রন্ধ্রে আমার বেড়ে ওঠার স্মৃতি রেখে গেছি।পুরোনো ঘাস, বুনো লতারা কত বার মরে গিয়ে নতুন রুপে গজিয়েছে।আছে সামনের পথটা, আছে বাড়ির পেছনের পথটাও।যেখান দিয়ে আসা যাওয়া করেছি জীবনে অজস্র বার। সময়ের সাথে সাথে কত বিবর্তন চোখে পড়ে। নেই আমার প্রিয় সেই মাধবীলতা, গন্ধরাজ আর শিউলির গাছটা।কিন্তু আমি তাদের দেখি, সাথে দেখি সেই বালিকা বেলার মেয়েটাকে।সময়ের সাথে হারিয়েছি অনেক কিছু।

এসবই এখন শুধুই একটা কষ্ট জড়িত ভাল লাগার উপাখ্যানের মত।আমার আব্বা ঘরে শুয়ে আছেন। এটাই তার উপস্হিতি।তবুও শান্তি, ভাল লাগা-আব্বা আছেন তার বাড়িতে তার অস্তিত্ব নিয়ে আমাদের মাঝে। যেন শুধু শান্তি এবং স্বস্তিতে থাকেন এটুকু চাওয়া। পুরো সরগরম এলাকাটা এক নীরব পুরী।বাইরে থেকে বিশাল এলাকা জুড়ে বাড়িগুলো নিঝুম পুরীর মত দাঁড়িয়ে আছে।কোন পরিবারে অভিভাবক কেউ গত হয়েছেন, কোন পরিবারে কেউ অসুস্হ হয়ে ঘরবন্দী।সন্তানেরা যার যার সংসারে ব্যস্ত। শুধু আজীবনের সাক্ষী হয়ে স্হির আছে সকালের সূর্য, রাতের তারা ভরা আকাশ, মাটি, পুরোনো গাছপালা।অনেক বিদায়ের মাঝে হয়েছে নতুনের আগমন। কিন্তু শুধু আমার মনের ভেতরে বেজে যায় হাজারো স্মৃতির কথকতা, বেজে যায় ফেলে রেখে যাওয়া শত গল্পের বেদনার সুর।

আব্বা ঘুমিয়ে আছেন।আমি শুয়ে আছি তার পাশের বিছানায়।তিনি খুব একটা ভাল নেই, তবুও আছেন পাশে, বলে কেমন একটা শান্তি বোধ করছি।একেই বলে অস্তিত্বের উপস্হিতি, যেটা চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার থেকে অনেক গুন স্বস্তি দেয়। শুধু আছেন, এটা যে কত বড় প্রাপ্তি।শুধু মন সেটা বোঝে। আমরা আজও বাড়ি বুঝি তাদের উপস্হিতির জন্যই।বাড়ি শুধু একটা শব্দ না, এর ভেতরে জড়িয়ে থাকে শত শত গল্প কথা।একটা করে অস্তিত্বের বিলুপ্তির সাথে সাথে, একটা করে গল্পের পরিসমাপ্তি হতে থাকে।এক একটা বাড়ি লুকিয়ে রাখে তার অবয়বে হাজার দিন আর রজনীর কাহিনী।হয়ে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী।

আসলে কি বাড়ি প্রাণহীন? আমরা একটা প্রাণের অস্তিত্ব ধারণ করি,সে ধারণ করে রাখে হাজার প্রাণের অস্তিত্বের গাঁথা।প্রজ্জ্বিলত সূর্য কিরণের অবিরত বিচ্ছুরণ,প্রবহমান বাতাস,চাঁদের আলো,তারা ভরা আলোকিত রাত,এমনকি অমাবশ্যার আঁধার,যে আঁধারেও রচিত হয়েছে কত গল্প কাহিনী।নীরবে দেখে গিয়েছে কত ভালবাসা, সুখ, স্নেহ মমতা,কত ব্যাথা,যন্ত্রণা, ক্ষোভ,দুঃখের ঘটনা, হয়তো ছায়ার মত ছবি করেবুকে ধরে রেখেছে।দিনের সাথে দেখে যায় কত হারিয়ে যাওয়া ক্ষণ, কত বিলুপ্তির বেদনার ক্ষণ! তবু থাক এরা জাগুরক,তবুও তো বুকে ধারণ করে রাখুক আমাদের সকলের সব জীবনের স্মৃতি কথা।যতদিন বেঁচে থাকবো, বারবার তোর কোলে ফিরে এসে যেন নিতে পারি সেই সব পুরোনো আলো-বাতাস,আর  রুপ-রসের মায়াবী গন্ধ!

অনন্যা হক: কবি ও লেখিকা

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin.
IT & Technical Support :BiswaJit