আজ, সোমবার | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | সন্ধ্যা ৭:০৯

ব্রেকিং নিউজ :
মাগুরার দুরাননগরে যুবকদের শ্রম বিক্রির অর্থে দরিদ্র মানুষের ঘরে ত্রাণ মহামারি করোনা : হেসে উঠুক আমাদের ভালবাসার পৃথিবী মাগুরায় করোনা রোগী: ভয় নয়, আরও দায়িত্বশীল হই চাউলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ত্রাণ নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে সাহেব আলি ছকাতি মাগুরায় ঢাকা থেকে ফেরা আরো এক যুবক করোনা আক্রান্ত গ্রাম লক ডাউন ঘোষণা মাগুরায় ৫ শতাধিক ইমাম মোয়াজ্জিনের মধ্যে এমপি শিখরের নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান মাগুরায় আশুলিয়া থেকে ফেরত যুবক করোনায় আক্রান্ত গ্রাম লকডাউন মাগুরায় ইঞ্জিনিয়ার মিরাজের নেতৃত্বে ১৪শত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ ও স্যানিটাইজার বিতরণ মাগুরাসহ যশোর অঞ্চলে জনসচেতনায় কাজ করে যাচ্ছে সেনা সদস্যরা করোনা প্রতিরোধে মাগুরা সিভিল সার্জনকে জাসদের ৭টি প্রস্তাব
সে দিনের সেই ঈদ_অনন্যা হক

সে দিনের সেই ঈদ_অনন্যা হক

অনন্যা হক : পাড়া বা মহল্লার সাথে আন্তরিকতা ও সখ্যতা শব্দ দুটোর এক বিরাট যোগসূত্র ছিল এক সময়। ঠিক তেমনি এক সময়ে বেড়ে উঠেছি আমি। মানুষের সাথে মানুষের সখ্যতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখেছি তখন।

পবিত্র ঈদ এলে এটা বোঝা যেত। ঈদ কত মহিমান্বিত এবং আনন্দময় ভাবে উদযাপন হতো তখন, সকলের মনেই তার রেখাপাত আঁকা হয়ে আছে।

সময়ের সাথে জীবন অনেক পাল্টে গিয়েছে। সেদিনের সেই ঈদের আমেজের রেশ এখনও মনে বয়ে বেড়াই।

ঈদে নতুন পোশাক এক চিরন্তন আনন্দ ও ঐতিহ্য। তখন ঘরে ঘরে প্রাচুর্যের এত ব্যাপকতা ছিল না।তাই পোশাকের বাহুল্যও ছিল সীমিত।সারা বছর অপেক্ষা করে ঈদে একটা নতুন জামার জন্য আমরা উন্মুখ হয়ে থাকতাম।

ঐ জামা কেন্দ্রিক আনন্দের ব্যাপ্তিও থাকতো কয়েক দিন ধরে।

মনে পড়ে পোশাক বানিয়ে লুকিয়ে রাখার কথা।ঈদের আগে কেউ কাউকে দেখাতে চাইতো না। যেন আগে দেখে ফেললে কি বিশাল ক্ষতি। কি নিস্পাপ সরল আবেগ ছিল তখন মনে! এখনকার প্রজন্মের কাছে যা অত্যন্ত হাস্যকর বলে মনে হবে।

রোজার শুরু থেকে শুরু হতো ঈদের আমেজ।ঈদ যত কাছে এগিয়ে আসতো, ভেতরে এক টানটান খুশির হাওয়া বয়ে যেত।মফস্বল শহরের ঈদ গুলো বড় শহর থেকে একটু বেশী জমজমাট ভাবে পালিত হয় সব সময়।শহরের বেশীর ভাগ লোক পরিচিত থাকায় ঈদের জামাত হয় উৎসব মুখর। পরিচিত জনের কোলাকুলির মাধ্যমে হৃদ্যতা বিনিময় এক মনোরম দৃশ্য।

প্রতিটা পাড়া আত্মীয় স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশী দের আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠতো। যারা বাইরে কর্মস্থলে অবস্থান করেছে,তাদের নিজ শহর অভিমুখে ছুটে যাওয়া যেমন খুশি, তাদের জন্য অপেক্ষা করে থাকাও তেমন খুশির। এখন এসব আনন্দে যেন অনেকটা ভাটা পড়ে গিয়েছে। অনেক গুটিয়ে গিয়েছে মানুষ নিজেদের গন্ডির ভেতরে জীবনের জটিলতায়। আমাদের সময় যে কোন বাসায় যাতায়াত ছিল অবলীলায়।মানুষ মানুষকে গ্রহণ করতো সানন্দে, এটাই ছিল রেওয়াজ।

ঈদে যতরকম রান্না হোক না কেন, ঈদের সেমাই এর চাহিদা ছিল তুঙ্গে।খাঞ্চা ভরা দুধ সেমাই, জর্দা সেমাই,চালের জর্দা ডেজার্টের অবস্থান টা পুরোপুরি দখল করে রাখতো। এখন মানুষ বৈচিত্রের খোঁজে অনেক ভিন্নতা আনলেও, ঈদ মানেই সেমাই আমাদের মনে উঁকিঝুঁকি দেয়।

ছিল মুরব্বী দের পায়ে হাত দিয়ে সালাম এর প্রচলন, যার সাথে ছিল নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে সালামি প্রাপ্তির এক আনন্দ। আমাদের কাছে যখন খুব অল্প টাকাই ছিল বিরাট এক পাওনার মত।তখন তো অভিভাবকদের মধ্যে সন্তান দের পকেট মানি দেয়ার কোন বিষয়ের তেমন কোন চল ছিল না। টাকা আমাদের কাছে তখন এক দুষ্প্রাপ্য বস্তুর মত।তাই ঐ সামান্য টাকা যথেষ্ট খুশির কারণ ছিল।দশ টাকা সালামি তেও কত আনন্দ হতো। আর নোট টা যদি হতো চকচকে তাহলে তো আরও ভাল।

খাওয়ার পর্ব চলতো বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে, হয়তো নিজের বাড়ি তেই খাওয়া বাকী থেকে যেত ঈদের দিন। ভাইবোন, বন্ধু মহলে চলতো এক লাগাম হীন ইচ্ছে স্বাধীন চলাফেরা।অনেক বিধিনিষেধ শিথিল থাকতো ঈদ উপলক্ষে। সারা দিন ঘোরাঘুরি শেষে, রাতের আকর্ষণ ছিল হানিফ সংকেত এর ইত্যাদি। এক সাথে অনেকে জড় হয়ে উপভোগ করতাম সেই প্রত্যাশিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান।

এখন শুরু হয়েছে ঈদের আমেজ সারা দেশে। যখন যেমন করেই পালন করা হোক, প্রতি টা ঈদ মানুষ কে একত্রিত করে এক মিলন উৎসবে পরিণত হয়। ছুটে চলে অগণিত মানুষ শত বাঁধা বিপত্তি পায়ে মাড়িয়ে আত্মহারা হয়ে, দিগ্বিদিক হারা হয়ে মাটির টানে, নাড়ির টানে, ভালোবাসার টানে। কত না রকমারি যানে ছুটে চলে ঈদ উদযাপনে।

ঈদ তো ঈদ, এক পবিত্র উৎসব। শুধু সময়ের পার্থক্য, কিন্তু পালনের মহিমা খুব পবিত্র ভাবেইএখনও মানুষের মাঝে বিরাজমান।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin.
IT & Technical Support :BiswaJit