আজ, বুধবার | ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | রাত ৩:০১

ব্রেকিং নিউজ :
মাগুরার দুরাননগরে যুবকদের শ্রম বিক্রির অর্থে দরিদ্র মানুষের ঘরে ত্রাণ মহামারি করোনা : হেসে উঠুক আমাদের ভালবাসার পৃথিবী মাগুরায় করোনা রোগী: ভয় নয়, আরও দায়িত্বশীল হই চাউলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ত্রাণ নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে সাহেব আলি ছকাতি মাগুরায় ঢাকা থেকে ফেরা আরো এক যুবক করোনা আক্রান্ত গ্রাম লক ডাউন ঘোষণা মাগুরায় ৫ শতাধিক ইমাম মোয়াজ্জিনের মধ্যে এমপি শিখরের নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান মাগুরায় আশুলিয়া থেকে ফেরত যুবক করোনায় আক্রান্ত গ্রাম লকডাউন মাগুরায় ইঞ্জিনিয়ার মিরাজের নেতৃত্বে ১৪শত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ ও স্যানিটাইজার বিতরণ মাগুরাসহ যশোর অঞ্চলে জনসচেতনায় কাজ করে যাচ্ছে সেনা সদস্যরা করোনা প্রতিরোধে মাগুরা সিভিল সার্জনকে জাসদের ৭টি প্রস্তাব

কিস্তি

মাহমুদা রিনি : সারারাত ঘুম আসে না, ছটফট করতে থাকে মনিবালা।

ভোর না ফুটতেই হাসের ঘর হাতড়ায়। দু-চারটে ডিম যা পায় বেচে কয় টাকা হবে মনে মনে হিসেব কষে। আজ সমিতির কিস্তি দেয়ার দিন। যমদূতের মতন শমন নিয়ে হাজির হবে সমিতির লোকজন।

গত সপ্তাহে একবার টাকা দিতে পারেনি মনিবালা। কত আজেবাজে কথা বলে গেছে তারা। আজ কি হবে!

টাকা চায়– টাকা। কিস্তির টাকা।

কোন কথা হবে না, টাকা না দেয়া পর্যন্ত এই বসলাম আর উঠবো না। বলে সমিতির লোক বারান্দায় বসে হম্বিতম্বি করতে থাকে। যেন ঘাড়ের ওপর খাড়া ধরে আছে। মাঝে মাঝে দু-একজন আবার বাজে মন্তব্যও করতে ছাড়ে না।


সমিতি থেকে লোন করে স্বামীকে জাল, ডিঙি নৌকো কিনে দিয়েছিল জেলে পাড়ার মনিবালা। মাছ ধরে কিস্তি পরিশোধ করবে এমনটাই আশা ছিল তার। হঠাৎ স্বামী অসুস্থ হওয়ায় মাছ ধরা বন্ধ। ডাক্তার দেখানোর পয়সা নেই। সকাল সন্ধ্যা জ্বর, হাঁপানি, কাশি নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছে মানুষটা। তিন তিনটে ছেলেমেয়ে আর অসুস্থ স্বামী কে নিয়ে মনিবালা দু-বেলা দুমুঠো খাবারই যোগাড় করতে পারে না কিস্তির টাকা শোধ করবে কিভাবে!


জেলেপাড়ার সবাই গরীব, ধার দেয়ার মতোও কেউ নেই। ভদ্র পাড়া বেশ দূরে। সেখানে এক বাড়িতে মনিবালাকে বাধ্য হয়ে ঠিকে কাজ নিতে হয়েছে। ব্যস্ত ত্রস্ত হয়ে কোনমতে হাতের কাজ সেরে ঘরের কোনের টিনের বাক্সটা থেকে একটা শাড়ী বের করে সে। ক’বছর আগে পূজোয় বাপের বাড়ি থেকে দিয়েছিল। বেশ চওড়া পাঁড়ের মাছরাঙা রঙের শাড়ীটা খুব পছন্দ হয়েছিল মনিবালার। ঐ একটা মাত্র শাড়ীই তোলা ছিল, কোথাও যেতে টেতে গেলে লাগে। কিন্তু আর বোধহয় বাঁচানো গেল না। শাড়ীটা বেচেই সমিতির টাকাটা শোধ করতে হবে। আর কোন উপায় নেই। পুরনো শাড়ী, যদিও বেশি বার পরেনি সে তবু কত দাম পাওয়া যাবে কি জানি! তারপরও যা হয় আর ডিম বেচা কিছু আছে তাই দিয়ে এ সপ্তাহর মত হয়তো রেহাই পাওয়া যাবে।


সামনে মাসে আরো এক বাড়িতে কাজের কথা বলেছে, মেয়েটাও দশ বারো বছর বয়স হলো ওকেও বিকাল বেলাটায় যদি কোন বাসায় কাজে দেয়া যায় তাহলে ওর খাওয়ার খরচটা বাচবে আবার সকালে স্কুলেও যেতে পারবে। এইসব ভাবতে ভাবতে শাড়ীটা আঁচলের তলায় লুকিয়ে উর্ধশ্বাসে ছুটতে থাকে মনিবালা।


ওকে তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে— ওর পিছনে তাড়া করে ফিরছে সাপ্তাহিক কিস্তি আদায়ের শমন–

ওর পিছনে অপেক্ষা করছে তিন সন্তান, অসুস্থ স্বামী।


ওকে পিছন থেকে টানছে ওর সংসার ও সর্বগ্রাসী ক্ষুধা।

ওর নারীত্ব, ওর সম্মান, ওর অধিকার, মানবাধিকারের সংঙ্গা, দেশের প্রবৃদ্ধির হার, উন্নয়ন কোনকিছুই ওর ছুটে চলার গতি কমাতে পারেনা।

মাহমুদা রিনি: গল্পকার ও মানবাধিকার কর্মী

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin.
IT & Technical Support :BiswaJit